May 8, 2026
image (51)

গুয়াহাটি: গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ থাকা গুয়াহাটির তরুণী শিক্ষিকা ভাবনা শর্মার সন্ধান মিলল মেঘালয়ের শিলংয়ে। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার সকালে শিলংয়ের পোলো গ্রাউন্ডের কাছে একটি ব্যাঙ্কের সামনে থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, ওই সময় তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন। একজন সচেতন মহিলা বনকর্মী তাঁকে এই অবস্থায় দেখে উদ্ধার করেন। ইতিমধ্যে ভাবনার পরিবারের সদস্যরা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং তাঁকে ফিরিয়ে আনতে শিলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

গুয়াহাটির তেতেলিয়া এলাকার বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী ভাবনা শর্মা গত শুক্রবার স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি উবার (Uber) বুক করেছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তিনি ফোন করে পরিবারকে জানান যে তিনি চরম বিপদে পড়েছেন। ফোনে কেবল ‘I am in danger’ কথাটি বলতে পেরেছিলেন তিনি, তারপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তাঁর পরিবার দ্রুত জালুকবাড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করলেও শনিবার সকাল পর্যন্ত তাঁর কোনো হদিস মেলেনি।

শনিবার সকালে মেঘালয়ের শিলংয়ের পোলো গ্রাউন্ড এলাকায় এক মহিলা বনকর্মী দেখতে পান যে একটি ব্যাঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে এক তরুণী অঝোরে কাঁদছেন। তাঁর পরিচয় জানার পর বোঝা যায় তিনি গুয়াহাটি থেকে নিখোঁজ হওয়া সেই ভাবনা শর্মা। ভাবনার প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, উদ্ধারের খবর পাওয়ামাত্রই ভাবনার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা শিলংয়ের পথে রওনা দিয়েছেন।

ভাবনা শর্মা গুয়াহাটির নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মাইলস ব্রনসন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল’-এর সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন বলে পরিচিত মহলে চর্চা থাকলেও, স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তাঁদের দাবি, ভাবনা এখন আর ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন। তিনি গত ২৮ শে মার্চ নিজ ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে এই নিখোঁজ রহস্যের সাথে স্কুলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

বর্তমানে ভাবনা শর্মা পুলিশি নিরাপত্তায় রয়েছেন। তিনি কীভাবে গুয়াহাটি থেকে শিলং পৌঁছালেন এবং উবার যাত্রার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভাবনার বয়ান পাওয়ার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাঁর ফিরে আসার খবরে পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *