ওমানের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে বিধ্বংসী সামরিক হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা আঞ্চলিক সামুদ্রিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি আরব সাগরের নিকটবর্তী কৌশলগত জাহাজ চলাচলের পথের মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে, যেখানে জাহাজটি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত সামুদ্রিক করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল। প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, বিমান হামলায় জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার জন্য ওই এলাকায় কর্মরত সামরিক সরঞ্জামকে দায়ী করা হচ্ছে। জ্বলন্ত জাহাজটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিপদ সংকেত পাঠানো হয়, যার ফলে আঞ্চলিক নৌবাহিনী এবং কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো একটি দ্রুত সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, হামলার ভয়াবহ প্রভাব তিনজন নাবিকের জন্য প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়।
নিহত ভারতীয় নাবিকদের নিকটাত্মীয়দের খবর জানানো চলমান থাকায় তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ বাকি নাবিকদের ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামো থেকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সামান্য আঘাতের জন্য জরুরি চিকিৎসা পেয়েছেন। ভারত সরকার তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং এই লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলার সঠিক পরিস্থিতি নির্ণয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ও কূটনৈতিক চ্যানেলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছে। এই প্রাণঘাতী ঘটনাটি অস্থিতিশীল বাণিজ্য পথে চলাচলকারী বেসামরিক বাণিজ্যিক নাবিকদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টিই তুলে ধরে, যেখানে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুগুলো ক্রমশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথেও প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোটগুলো হামলার সঠিক গতিপথ নির্ধারণ করতে এবং এই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে।
