ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এখন ‘একেবারে শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে। এনবিএ ফাইনাল ম্যাচ দেখে ফেরার পথে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষই আপাতত সামরিক সংঘাত থামাতে সম্মত হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের সমান্তরালেই লেবাননে তীব্র হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি এবং দক্ষিণের টায়ার ও নাবাতিয়াহ এলাকায় দফায় দফায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল।
মূলত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব, যাতে এখন পর্যন্ত বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত রবিবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ট্রাম্পের কড়া বার্তার পর তেহরান সাময়িকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন ও আঞ্চলিক অন্যান্য ফ্রন্টে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা আবারও পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর তিনি ইরানে বড় ধরনের হামলা পরিকল্পনা স্থগিত করলেও আত্মরক্ষার্থে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা অনড়। কূটনৈতিক টেবিলে ট্রাম্পের শান্তি চুক্তি সফল হয় নাকি লেবানন সংকটকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
