কাছাড় জেলার কাটিগড়া সংলগ্ন গোবিন্দপুর দ্বিতীয় খণ্ডে এক ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্ষার মৌসুম শুরুর আগেই বরাক নদের ডান তীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ বা ডাইক ধসে পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক বছর আগে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা এই বাঁধটি এখন চরম বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে তলিয়ে যেতে পারে ওই এলাকার অন্তত ৫০০০ পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।
জলসম্পদ বিভাগের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের (RIDF) অধীনে ২০২৩ সালে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, গনিরগ্রাম থেকে কাটিগড়া পর্যন্ত এই বাঁধের স্থায়ী সংস্কার ও ভাঙন রোধে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৭.৬২ কোটি টাকা ব্যয় করে ৫,২৮৪ মিটার মাটি ভরাট এবং ৬০০ মিটার ভাঙন রোধক কাজ করার কথা ছিল। ২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ জারি করা হয় এবং ওই বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
বর্তমানে বাঁধের বেহাল দশা কাজের গুণমান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে মাটি সরে গিয়ে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারী সংস্থার গাফিলতির কারণেই আজ হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা সংকটে।
বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ এলাকা পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা এই প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় কাটিগড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এক বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।
