শীতের শুষ্ক আবহাওয়া ও স্থানীয় বিভিন্ন দূষণকারী উৎসের কারণে আসামের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুয়াহাটিতে বায়ুর গুণমান হঠাৎ করে অত্যন্ত খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে এবং গত ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কুয়াশার সাথে ধূলিকণার ভারী আস্তরণ ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিবেশ বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিয়েল-টাইম মনিটরিং ডাটা অনুযায়ী গুয়াহাটির বিভিন্ন এলাকায় বাতাসের গুণমান ‘খারূপ’ থেকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ সীমানার মধ্যে প্রবেশ করেছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি দূষণ রেকর্ড করা হয়েছে সাতগাঁও এলাকায় যার একিউআই (AQI) ১৬৫, এর পরেই বোংষর এলাকায় ১৬২ এবং ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র পানবাজারে ১৫৫ একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবেশবিদরা এই অবনতিশীল পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত নগর পরিচালনা ও উদাসীনতাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে শীতের মরসুমে স্বাভাবিক আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও ধূলিকণা উৎপাদন হ্রাসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলমান ভারী ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণের স্বার্থে নির্বিচারে গাছ কাটা এবং ট্রানজিট রুটের পাশে উন্মুক্ত স্থানে পৌর সলিড বয়েল বা বর্জ্য পোড়ানোর মতো ঘটনাগুলো এই মৌসুমী কুয়াশা ও দূষণের সমস্যাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, বন বিভাগ এবং এনএইচএআই (NHAI)-কে সবুজ বেষ্টনী বা গ্রীন বাফার জোন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া থাকলেও বাস্তবে তার তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিত কংক্রিট সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। যদিও দেশের অন্যান্য মেগাসিটি যেমন দিল্লি বা পাটনায় দূষণের মাত্রা আরও অনেক বেশি গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, তবুও গুয়াহাটির এই দ্রুত অবনতি পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, বিশেষ করে যখন বর্তমান পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম২.৫ এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৭৪ মাইক্রোগ্রামে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা সীমার তুলনায় বহুগুণ বেশি। তবে আনন্দের বিষয় হলো আসামের অন্যান্য চিহ্নিত অ-অর্জিত বা নন-অ্যাটেইনমেন্ট শহরগুলো এই মারাত্মক দূষণের কবল থেকে অনেকটাই মুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে নগাঁও এবং শিলচর সন্তোষজনক স্তরে অবস্থান করছে এবং কম যানবাহন ঘনত্বের কারণে শিবা সাগর তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর সবুজ সূচক বজায় রাখতে পেরেছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বৃদ্ধ এবং হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে শারীরিক পরিশ্রম বা ঘোরাঘুরি করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং আবহাওয়ার শুষ্ক এই ধারা চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে আঞ্চলিক কোনো শীতের বৃষ্টি বা ঝিরিঝিরি আবহাওয়া না হওয়া পর্যন্ত শহরের বায়ুমণ্ডল এই চাদরেই ঢাকা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
