November 7, 2026
WhatsApp Image 2026-11-07 at 1.28.44 PM

জাতীয় স্তরে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি সাফল্যের পালক। বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সম্মানজনক ‘অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স ২০২৬’ সম্মাননা অর্জন করল ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)। গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ত্রিপুরা, অসম ও সিকিম। নিঃসন্দেহে এই স্বীকৃতি রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবার আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও দিশানির্দেশনার মধ্যেই এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী করে তোলার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাজ্য সরকার কাজ করছে, জাতীয় স্তরের এই স্বীকৃতি সেই প্রচেষ্টাকেই আরও একবার প্রতিষ্ঠিত করল।
গত ৩ ও ৪ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিনের জাতীয় কর্মশালায় এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‘রিভিউ অ্যান্ড অ্যালাইনমেন্ট অফ রিলায়েবিলিটি ডেটা বিটুইন ডিসকম অ্যান্ড এনএফএমএস’ শীর্ষক এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। টিএসইসিএলের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন ডিরেক্টর (টেকনিক্যাল) ড. সুবীর সেন, এজিএম (ডিপি অ্যান্ড সি) ইঞ্জিনিয়ার শিশির দেববর্মা এবং ডিজিএম (ডিপি অ্যান্ড সি) ইঞ্জিনিয়ার জহর দেববর্মা।
এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, আইএএস-এর প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গোটা দেশের বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ত্রিপুরায় প্রাকৃতিক গোলযোগ ছাড়া ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রামে গড়ে ২৩ ঘন্টা ৭ মিনিট এবং শহরের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ২৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট নিরন্তর বিদ্যুৎ পরিষেবা বজায় রাখা হয়েছে। এখানে
বিদ্যুৎ পরিষেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিগমের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক, প্রকৌশলী ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই জাতীয় স্বীকৃতি অর্জনের পথকে সুগম করেছে। এবারের দুর্গা পূজার সময় প্রায় বিরতিহীন বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্ষেত্রে জন্যও রাজ্য প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ডিসকম এবং ন্যাশনাল ফিডার মনিটরিং সিস্টেমের (এনএফএমএস) মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যের যথাযথ পর্যালোচনা ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়কাল ও পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ, বণ্টন নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রেখে গ্রাহকদের আরও উন্নত বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাতীয় স্তরে এই সম্মাননা অর্জনের পর বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ বিদ্যুৎ নিগমের সমস্ত আধিকারিক, প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন। তাঁদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই রাজ্যের বিদ্যুৎ নিগম এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী দিনেও একই নিষ্ঠা ও কর্মোদ্যম নিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এই সম্মাননা শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার জাতীয় স্বীকৃতি। রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই সাফল্য আগামী দিনে নিগমের আধিকারিক ও কর্মীদের আরও উৎসাহিত করবে বলেই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *