আগামী ১ জুলাই থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সুবিধা বন্ধ করার অসম সরকারের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কিডনি রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্তদের জন্য ডায়ালাইসিস কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য চিকিৎসা, যা নিয়মিত গ্রহণ করতে হয়।
রোগী ও তাঁদের স্বজনদের আশঙ্কা, এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে যাঁরা এখনো সরকারি ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে স্থান পাননি, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চিরাং জেলার বাসিন্দা জালালুর রহমান জানান, তাঁর ভাই গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। সরকারি কেন্দ্রে সুযোগ পাওয়ার আগে তাঁরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। ডায়ালাইসিস, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসক ফি মিলিয়ে অল্প সময়েই তাঁদের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায় এবং ঋণ নিতে হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গুয়াহাটির এক নেফ্রোলজিস্টের মতে, অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ায় সেখানেই থাকতে চান। তবে আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের সরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, একটি ডায়ালাইসিস সেশনও মিস হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেশি থাকায় নতুন রোগীদের কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
