২০২৬ সালের ৩০ জুন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে ১১তম বার্ষিক ‘আন্তর্জাতিক গ্রহাণু দিবস’ (International Asteroid Day) পালন করেছে। এটি জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত একটি বৈশ্বিক কর্মসূচি, যার লক্ষ্য হলো গ্রহাণুর আঘাতের ঝুঁকি এবং গ্রহের সুরক্ষার (planetary defense) বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই বার্ষিক আয়োজনটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, মহাকাশ সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে; যেখানে তারা পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তু বা ‘নিয়ার-আর্থ অবজেক্টস’ (NEOs)-এর গতিপথ পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এবং কোনো সম্ভাব্য হুমকির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করে। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য—”গ্রহের সুরক্ষা এবং গ্রহাণুর আঘাতের ঝুঁকি” (Planetary Defence and Asteroid Impact Hazards)—কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিজ্ঞান জাদুঘর, জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক সমিতি এবং মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রগুলো বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা, অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা এবং সরাসরি আকাশ পর্যবেক্ষণের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় ১৯০৮ সালে সংঘটিত ‘তুঙ্গুস্কা ঘটনা’-র (Tunguska event) বার্ষিকী স্মরণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩০ জুন তারিখটিকে এই দিবসের জন্য নির্বাচন করেছিল। সেই ঐতিহাসিক বিস্ফোরণে প্রায় ২,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৮ কোটি গাছপালা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই ছিল গ্রহাণুর আঘাতের সবচেয়ে বড় রেকর্ডকৃত ঘটনা। ২০১৪ সালে কিং (Queen) ব্যান্ডের কিংবদন্তি গিটারবাদক ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী ব্রায়ান মে-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে এই আন্দোলনটি শুরু হয়। তখন থেকেই এটি সরকার ও স্বতন্ত্র গবেষকদের প্রতি সম্ভাব্য বিপজ্জনক মহাজাগতিক শিলা বা গ্রহাণু শনাক্তকরণের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। যদিও নাসা (NASA) এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বর্তমানে ৩৬,০০০-এরও বেশি পৃথিবীর নিকটবর্তী গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ করছে, তবুও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে—ছোট আকারের হলেও একটি শহর ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এমন বিপুল সংখ্যক গ্রহাণু এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রসারের মাধ্যমে ‘আন্তর্জাতিক গ্রহাণু দিবস’ সেই সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর জোর দেয়, যা উদ্ভাবনী মহাকাশ প্রযুক্তিতে অর্থায়ন, আকাশের মানচিত্র তৈরি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।
