ওড়িশার কেওনঝড় জেলার এক আদিবাসী ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টির পর, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক (IOB) একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় এমন কিছু অভিযোগ সামনে আসার পর, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে—তহবিল বা পেনশন সুবিধা ছাড় করার জন্য ব্যাংকটি মৃত পরিবারের সদস্যের ‘শারীরিক উপস্থিতি’ সংক্রান্ত অত্যন্ত অসংবেদনশীল কিছু শর্ত আরোপ করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ব্যাংকটি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে যে—কোনো লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য তারা কখনো কোনো মৃত ব্যক্তির “শারীরিক উপস্থিতি” দাবি করেছে। IOB-এর বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যাংকটি মানবিক ও বিধিবদ্ধ নির্দেশিকাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলে; বিশেষ করে যখন তারা সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী এবং শোকাহত পরিবারগুলোর সাথে কাজ করে।
ব্যাংকটি ব্যাখ্যা করে জানায় যে, এই বিভ্রান্তি সম্ভবত সাধারণ KYC (গ্রাহক পরিচিতি যাচাই) পদ্ধতি কিংবা আইনি উত্তরাধিকারীদের জন্য নির্ধারিত যাচাইকরণ সংক্রান্ত শর্তগুলো সম্পর্কে ভুল বোঝার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। IOB জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের কর্মীরা এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলো সহানুভূতির সাথে সামলানোর জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং এ ধরনের কোনো “ভয়াবহ” বা অমানবিক দাবি কখনোই অনুমোদিত ছিল না কিংবা করাও হয়নি। কেওনঝড়ের ওই আদিবাসী পরিবারের নির্দিষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গে ব্যাংকটি উল্লেখ করে যে, তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও সহজতর করার কাজ করছিল, যাতে প্রকৃত দাবিদাররা কোনো অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ ছাড়াই তাদের প্রাপ্য বুঝে পান। এই ব্যাখ্যার মূল উদ্দেশ্য হলো জনরোষ প্রশমিত করা এবং ব্যাংকটির মধ্যে মৌলিক সহানুভূতির অভাব রয়েছে—এমন ভুল ধারণা বা আখ্যানটি সংশোধন করা। ভবিষ্যতে, IOB আবারও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকার মানুষের জন্য ব্যাংকিং পরিষেবা সহজতর করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে; তারা নিশ্চিত করতে চায় যে, পরিবারের শোকের সময়ে তাদের প্রাপ্য সহায়তা প্রদানের পথে যেন কোনো প্রশাসনিক বাধা অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়।
