মণিপুরে লাগাতার সহিংসতা ও রক্তপাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি প্রধান ছাত্র সংগঠনের জোট ‘নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন’ (এনইএসও)। রাজ্যজুড়ে চলমান এই পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে এই ছাত্র সংগঠনটি।
এনইএসও-র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মণিপুরে নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে, যা মানবাধিকার, মানুষের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা ও শান্তির অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করছে। ছাত্র সংগঠনের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সাধারণ পরিবার ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর অকল্পনীয় দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, যার ফলে সর্বত্র শোক, ভয় ও অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে।
এনইএসও-র চেয়ারম্যান স্যামুয়েল বি. জিরওয়া এই সংঘাতের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মণিপুরের মানুষের এই যন্ত্রণা কেবল তাদের একার নয়, এটি সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্মিলিত বেদনা।”
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে এনইএসও জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষ যে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, তা সুশাসনের এক ভয়াবহ ঘাটতি। প্রশাসনের এই নিস্পৃহতাকে তারা দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের বিচ্যুতি বলে অভিহিত করেছে। দ্রুত শান্তি ফেরাতে এবং হিংসার অবসান ঘটাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সকল সম্প্রদায় ও অংশীজনদের প্রতি সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে এনইএসও পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, সহিংসতা কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। তাদের মতে, কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সমঝোতা সম্ভব। অতীতেও এই অঞ্চলে শান্তি স্থাপনে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে, এনইএসও জানিয়েছে যে মণিপুরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা কেবল একটি আঞ্চলিক প্রয়োজনীয়তাই নয়, বরং এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও বটে। অবিলম্বে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
