জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো প্রিফেকচারে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪-এ দাঁড়িয়েছে; এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, হতাহতের ঘটনাগুলো মূলত দুটি স্থানে বেশি ঘটেছে: কাশিমা এলাকার ‘আয়ন’ (Aeon) শপিং মল—যেখানে ভূমিকম্প-পরবর্তী গ্যাস বিস্ফোরণে ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছিল—এবং ইয়াতসুশিরো শহরের একটি কাগজ কারখানা, যেখানে বিশাল এক শিল্প-চিমনি ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়েছিল। উদ্ধারকারী দলগুলো যখন দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ইস্পাত ও কংক্রিটের স্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন হিকাওয়া ও উকিসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ১০,০০০ বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; এসব এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর কাছাকাছি পৌঁছানোয় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানাবিধ চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে; বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রের মেঝেতে পাতলা মাদুরে ঘুমানো বয়স্কদের মধ্যে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে কুমামোতো প্রিফেকচারাল কার্যালয়ে একটি বিশেষ জরুরি সাড়াদান কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি; পাশাপাশি জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (আত্মরক্ষা বাহিনী) দুর্যোগের মানবিক প্রভাব লাঘবে বহনযোগ্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, জরুরি জেনারেটর এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মোতায়েন করছে।
