April 18, 2026
image (61)

গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্পটি নিয়ে গুয়াহাটি হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এই প্রকল্পের জন্য ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফের স্ট্যান্ডিং কমিটির দেওয়া শর্তাবলি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। ১২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পটি নির্মাণ করছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)।

আবেদনকারী আরকাসিশ চালিহা এবং মহেশ ডেকার অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বন সংক্রান্ত ছাড়পত্র এখনও পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও, গুয়াহাটি ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের ডিএফও গাছ কাটার জন্য একটি ই-টেন্ডার প্রকাশ করেছেন। আবেদনকারীরা এই পদক্ষেপকে “তড়িঘড়ি” নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন।

এই বিষয়ে সরকারের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল পিএন গোস্বামী আদালতে জানিয়েছেন, ১৯৮০ সালের আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট টেন্ডারের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সরকার এই হলফনামা পেশ করবে।

আবেদনকারীরা গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন না, বরং তাদের মূল আপত্তি হলো এর নির্মাণপথ নিয়ে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাইপাসটি আমচাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং এর সংলগ্ন পরিবেশ-সংবেদনশীল এলাকার মধ্য দিয়ে চলে গেছে। হাতি, গিবন, চিতা এবং প্যাঙ্গোলিনের মতো বিপন্ন প্রাণীদের আবাসস্থল এই অভয়ারণ্যের সুরক্ষার বিষয়টি এই মামলায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

শহরের যানজট নিরসনে রিং রোডের প্রয়োজনীয়তা যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনই পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের বাসস্থানের সুরক্ষাও অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *