গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং তার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণের দায়িত্ব পেল ‘ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’ (WII)। সম্প্রতি গৌহাটি হাইকোর্টে এই তথ্য জানান অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল পি. এন. গোস্বামী। তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই সমীক্ষা রিপোর্ট হাতে আসার আগে প্রকল্পের জন্য কোনো গাছ কাটা হবে না। ১২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫,৭২৯ কোটি টাকা।
এর আগে একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছিল যে, প্রকল্পের কাজের জন্য আমসাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কাছাকাছি প্রায় ৪৫০টি গাছ কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভয়ারণ্য এবং বন্যপ্রাণের করিডোরগুলি রক্ষার দাবিতে সরব হন পরিবেশকর্মীরা। ‘ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ’-এর স্থায়ী কমিটি এই প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দিলেও কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো— বশিষ্ঠ থেকে জোরাবাট অংশ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক-২৭ সম্প্রসারণের সময় অন্তত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল সড়ক (elevated road) নির্মাণ করা। এর উদ্দেশ্য হলো আমসাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সাথে মারাকদোলা ও আপরিকোলা সংরক্ষিত বনের ঐতিহ্যবাহী হাতি চলাচলের পথ বা এলিফ্যান্ট করিডোরটি পুনরুদ্ধার করা।
এই প্রকল্পের অধীনে বাইহাটা চারিআলি থেকে সোনাপুর (কুরুয়া হয়ে) পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ নতুন বা গ্রিনফিল্ড সড়ক হিসেবে তৈরি হবে। যার মধ্যে কুরুয়া থেকে তিনটুকুরার (নরেঙ্গি) সংযোগকারী একটি ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের সেতুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করার তিন মাসের মধ্যে WII তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেবে। পরিবেশ রক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করে গৌহাটি হাইকোর্ট এই মামলার নিষ্পত্তি করেছে।
