অনাকাঙ্খিত ভাবে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক তথা সৎ, স্বচ্ছ অমায়িক এবং নিপাট ভদ্রলোক সিনিয়র আইপিএস অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যু হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিজি অফিসের বাথরুমে। একজন সিনিয়র আইপিএস অফিসার ইউনিফর্ম পড়ে যে ভাবে মৃত্যুকে বরন করেছেন এই ঘটনায় শুধু রাজ্য নয়, স্তম্ভিত গোটা দেশ। সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ আগরতলার ফায়ারব্রিগেড চৌমুহনী স্থিত পুলিশ হেডকোয়ার্টারে খোদ ডিজি অফিসে স্বয়ং ডিজি সাহেব যেভাবে মৃত্যু বরন করেছেন এতে করে রহস্য উন্মোচনের দাবি উঠেছে রাজ্যে এবং গোটা দেশে। একই ভাবে এই ঘটনায় কলঙ্কিত হয়েছে রাজ্য পুলিশ। প্রশ্ন উঠেছে আমজনতা যেমন তেমন খোদ পুলিশের শীর্ষমহল চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষে অফিসিয়ালি জিবি হাসপাতালে চিকিৎসক ডাক্তার প্রফেসর প্রদীপ ভৌমিক ঘোষনা করেন ডিজি সাহেবের মৃত্যুর খবর। তবে কিভাবে ডিজে সাহেবের মৃত্যু হয়েছে তা ডা: ভৌমিক বলেননি। পাশেই ছিলেন তার ধর্মপত্নী । ডিজি সাহেবের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে নানা মহলে নানা প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ছুটে যান স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষে অফিসিয়ালি ঘোষনা করা হয় ডিজি সাহেবের মৃত্যুর খবর। পাশেই ছিলেন তার ধর্মপত্নী । ডিজি সাহেবের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে নানা মহলে নানা প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। জিবি হাসপাতালে ছুটে যান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, প্রদেশ লাল নাথ, সুশান্ত চৌধুরী, প্রনজিৎ সিংহ রায়, বিকাশ দেববর্মা। বিকেলে মৃতদেহ পোষ্টমর্টেম করা হয়। এ গাড়ি সংরক্ষন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ছুটে গিয়েছিল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস আধিকারিক সহ ত্রিপুরা সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা। ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পর ২০২৫ সালে ডিজিপি সাহেবের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছিল রাজ্য সরকার। সবকিছুই ঠিক ঠাক ছিল, কিন্তু হঠাৎ ডিজি সাহেবের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে সারা রাজ্য প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে হাইকোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করানোর। রাতে মুখ্যমন্ত্রী অফিসিয়াল ভাবে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ মহা নির্দেশককে পাওয়া গেছে। তার অফিস কক্ষের বাথরুমের ভিতরে। জিবি হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত করার পর কফিনবন্দি করে কফিনের উপর জাতীয় পতাকা দিয়ে ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে আগরতলার কুঞ্জবনে পুলিশ মহা নির্দেশকের বাংলোতে আনা হয়েছে মৃতদেহ। আগামীকাল সকাল ত্রিপুরা পুলিশের মহা নির্দেশক এর দেহ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসা হবে। সেখান গার্ড অব অনার শেষে মৃতদেহ বিমানে করে দিল্লি নেওয়ার হবে। দিল্লি থেকে মৃতদেহ উত্তরপ্রদেশের তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে। জানা গেছে মহা নির্দেশকের এক ছেলে বর্তমানে কানাডাতে চাকরি করছেন সেখান থেকে আগামীকাল দিল্লি পৌঁছে ছেলে তার বাবার মৃতদেহ নিয়ে উত্তরপ্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পুলিশ মহা নির্দেশকের বাংলোতে Dgp সাহেবের কফিন নিয়ে আসার পর অনেক অফিসার ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক এবং ত্রিপুরা বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতন কল্যাণী রায় আসেন। সবার মুখে একটি কথা খুব ভালো অফিসার ছিলেন সৎ ও সাহসী অফিসার ছিলেন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না তিনি। রাতে রাজ্য পুলিশের প্রয়াত মহানির্দেশক অনুরাগের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্য সরকার আগামীকাল সমগ্র রাজ্যে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সারা রাজ্যে যে সব সরকারি ভবনে নিয়মিতভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় সেখানে আগামীকাল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়াও এদিন কোনও ধরনের সরকারি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করা হবে না। রাজ্য সরকারের সাধারণ প্রশাসন দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।
