মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে; ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ এবং NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের জেরে উভয় কক্ষই নির্ধারিত সময়ের আগেই মুলতবি করতে হয়। অধিবেশন শুরুর মুহূর্ত থেকেই কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং আম আদমি পার্টির নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে কক্ষের মাঝখানে (ওয়েল-এ) চলে আসেন। সোমবারের সংসদ অভিমুখে মিছিলে (যাতে শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে) পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নের বিষয়ে তাঁরা বিশেষ আলোচনার দাবি জানান। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং জোটের শীর্ষ নেতারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে “শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো বর্বরতা” নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার দাবি তোলেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। রাজ্যসভাতেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়; বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বিষয়টি উত্থাপনের চেষ্টা করেন এবং অভিযোগ করেন যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান যে, সরকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; তা সত্ত্বেও প্রবল স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের মধ্যে শাসক পক্ষ কক্ষের স্বাভাবিক কাজকর্ম পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে লোকসভায় ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল’ এবং রাজ্যসভায় ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল’ বিবেচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাজকর্ম থমকে যায়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভি.পি. রাধাকৃষ্ণন উভয় কক্ষই ২২ জুলাই, বুধবার সকাল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। এদিকে, পূর্ণাঙ্গ আলোচনার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কাজকর্ম ব্যাহত করার কৌশল বজায় রাখার বিষয়ে বিরোধীরা অনড় অবস্থান নেয়।
