নয়ডার শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের সহিংস বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনাকে বিরোধীরা যোগী সরকারের ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে অখিলেশ যাদব এই পরিস্থিতিকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’র লক্ষণের সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, সরকার সাধারণ শ্রমিকের পেটের ক্ষুধার সমাধান না করে দমন-পীড়ন নীতি বেছে নিয়েছে, যার ফলে শিল্পাঞ্চল আজ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিরোধীদের মতে, পার্শ্ববর্তী হরিয়ানার তুলনায় উত্তরপ্রদেশে শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও সরকার দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি উপেক্ষা করেছে, যা এই গণ-অসন্তোষের মূল কারণ।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি এই আন্দোলনকে একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে কিছু অশুভ শক্তি এবং বহিরাগত পক্ষ রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। শাসক দলের অনেক নেতার অভিযোগ, এই অস্থিরতার পেছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট বিশেষ কোনো চক্র বা ‘পাক-ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে, যারা ভারতের শিল্পোন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। পুলিশের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে সহিংসতায় নামানো হয়েছে। যদিও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন মজুরি ২১ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, তবুও রাজনৈতিক মহলে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বনাম ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি থামছে না। জনজীবন ও যানজট স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও রাজনৈতিক এই মেরুকরণ আন্দোলনকে এক নতুন মোড় দিয়েছে
