তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাত্রা অতিক্রম করায়, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে জেলা শাসক মণীশ কুমার ভার্মা নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডা জুড়ে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তনের একটি বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করেছেন। ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল, মঙ্গলবার থেকে কার্যকর এই নির্দেশ অনুযায়ী—CBSE, ICSE এবং UP বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত সকল স্কুলকে সকাল ৭:৩০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টার মধ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রাক-নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রযোজ্য এই নতুন সময়সূচির মূল লক্ষ্য হলো, দুপুরের শুরুতে সূর্যের তাপ যখন তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছায়, তার আগেই শিশুরা যেন নিরাপদে স্কুলের ভবনের ভেতরে অবস্থান করতে পারে—তা নিশ্চিত করা। এই নির্দেশটি এমন এক সময়ে এল, যখন জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR) দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং উত্তপ্ত ‘লু’ (Loo) বাতাসের প্রকোপে জর্জরিত; যা কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য বাইরের যেকোনো কার্যকলাপকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
জেলা শাসকের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নির্দেশিকাগুলো কোনোভাবেই আলোচনার বা পরিবর্তনের বিষয় নয়। তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেলে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের (Disaster Management Act) অধীনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সময় পরিবর্তনের পাশাপাশি, এই নির্দেশিকায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে শ্রেণিকক্ষগুলোতে সর্বদা ঠান্ডা পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে, পাখা বা কুলার সচল রাখতে এবং খোলা মাঠে শারীরিক শিক্ষার ক্লাস কিংবা সকালের সমাবেশ (Morning Assembly) সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিভাবকরা এই পদক্ষেপকে তাপজনিত ক্লান্তি এবং পানিশূন্যতা থেকে সুরক্ষার একটি অপরিহার্য ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন, তবুও কিছু স্কুল সংগঠন পাঠ্যক্রমের সময়সীমা সংকুচিত হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও, ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) সপ্তাহান্তের দিকে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ায়, প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে—আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচিই বহাল থাকবে।
