অ্যাসিড আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা মহিলার চোখের অস্ত্রোপচারের খরচ অসম সরকার বহন করবে কি না, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব তলব করেছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রের আইনি ও নৈতিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
নিশামণি বরা এবং অন্য এক আবেদনকারীর দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৌশিক গোস্বামী এই নির্দেশ দেন। গত ৩০শে এপ্রিল প্রদত্ত এই আদেশে আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আবেদনকারীর ডান চোখের কর্নিয়াল গ্রাফটিং (Corneal Grafting) অস্ত্রোপচারের খরচ বহনের বিষয়ে তারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা যেন অবিলম্বে জানানো হয়। শ্রী শঙ্করদেব নেত্রালয়ের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই অস্ত্রোপচারটি দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান যে, এর আগে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হায়দ্রাবাদে ওই মহিলার সাতটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল এবং সেই সময় রাজ্য সরকার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওই মহিলা পুনরায় হায়দ্রাবাদেই তার চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ‘লক্ষ্মী বনাম ভারত সরকার’ এবং ‘পরিবর্তন কেন্দ্র বনাম ভারত সরকার’ মামলার নজির অনুযায়ী, অ্যাসিড আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং তাদের যথাযথ পুনর্বাসন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও সরকারের আবশ্যিক দায়িত্ব।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, ক্ষতিপূরণের অর্থকে কোনোভাবেই চিকিৎসার শেষ সীমা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভুক্তভোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের বিশেষ বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। তবে হায়দ্রাবাদে অস্ত্রোপচারের আর্থিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলি বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারকে সময় দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ই মে ধার্য করা হয়েছে। সেদিনই জানা যাবে রাজ্য সরকার ওই মহিলার চিকিৎসার খরচ এবং হায়দ্রাবাদে যাওয়ার যাতায়াত ব্যবস্থার বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মানবাধিকার রক্ষা এবং অ্যাসিড আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এই মামলার রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
