আগামী ১২ জুন (ভারতীয় সময় অনুসারে) উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে চলা এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইপিএলের জমজমাট মরশুম শেষ হতে না হতেই ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের নজরে এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে এই বিশ্বযুদ্ধের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেলেও ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটি বড় প্রশ্ন তাড়া করে বেড়াচ্ছে—টিভির পর্দায় কোন চ্যানেলে দেখা যাবে খেলা? টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও ভারতের জন্য এখনও কোনো ব্রডকাস্টার বা সম্প্রচারকারী চ্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি ফিফা।
এই উদ্বেগের মাঝেই দেশের পাবলিক ব্রডকাস্টার প্রসার ভারতী ফুটবল ভক্তদের বড় ধাক্কা দিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টকে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারতে ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব নিশ্চিত করা তাদের আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। প্রসার ভারতী আনুষ্ঠানিকভাবে এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোয় ভারতের কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী, বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী দর্শক থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের ‘জেন-জি’ দর্শকেরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আইপিএল শেষ হওয়ার পর ভারত-আফগানিস্তান ক্রিকেট সিরিজ থাকলেও, ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
ফুটবলের নিরিখে বিশ্বমঞ্চে ভারতের স্থান এখনও অনেক পিছিয়ে। পুরুষ ফুটবলে ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৩৬ এবং মহিলা ফুটবলে ৬৯, এবং দেশ হিসেবে ভারত কখনও মূল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও প্রতিটি বিশ্বকাপ মরশুমে ভারত জুড়ে, বিশেষ করে গোয়া, কেরালা, কর্ণাটক, কলকাতা এবং পঞ্জাবে যে ফুটবল উন্মাদনা দেখা যায়, তা যেকোনো ফুটবল-প্রধান দেশকে টেক্কা দিতে পারে। এবার ৩২টির পরিবর্তে রেকর্ড ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচ নিয়ে আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্টকে ঘিরেও একই রকম উন্মাদনা তৈরি হয়েছে দেশজুড়েভারতের মতো এত বড় একটি বাজার থাকা সত্ত্বেও ফিফার ব্রডকাস্টার চূড়ান্ত করতে না পারাটা বেশ আশ্চর্যজনক। কারণ, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ৭৪.৫ কোটি দর্শক খেলা দেখেছিলেন, যা দর্শকসংখ্যার নিরিখে চীনের পরেই ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টেলিভিশন ভিউয়ারশিপের ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে প্রায় ৮.৪ কোটি মানুষ টিভিতে খেলা দেখেন। গতবার জিওসিনেমা শুধু ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ের জন্যই প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। তবে ভারতে ক্রিকেট বহির্ভূত খেলা থেকে স্পনসরশিপ ও রাজস্বের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় চ্যানেলগুলো এত বড় অঙ্কের স্বত্ব কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি না হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো ভারত ও উত্তর আমেরিকার সময়ের ব্যবধান। মেক্সিকো, কানাডা ও আমেরিকার সময় অনুযায়ী ম্যাচগুলো ভারতের মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২০ জুলাইয়ের ফাইনাল ম্যাচটিই যেমন ভারতীয় সময় রাত ১২:৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা। টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি ম্যাচ ভারতীয় সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের আগে শুরু হবে, বাকি সব ম্যাচই হবে গভীর রাতে বা ভোরে।
