উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান আকাশপথের প্রবেশদ্বার লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এলজিবিআইএ) নতুন সমন্বিত টার্মিনালের কার্যক্রম গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর, আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার তত্ত্বাবধানে এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে আধুনিক এই টার্মিনালটি এখন যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত। প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি আসাম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই স্থাপনাটি চালু হওয়ার ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১৩.১ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে, যা এই অঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে আরও শক্তিশালীভাবে সংযুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
স্থাপত্যশৈলীতে আসামের কপো ফুল এবং বাঁশের কারুকার্যের অনন্য সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি আধুনিকতার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই অত্যাধুনিক অবকাঠামো শুধুমাত্র যাত্রীসেবাই উন্নত করবে না, বরং পর্যটন ও ব্যবসায়িক খাতেও নতুন গতি সঞ্চার করবে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি ২১টি অভ্যন্তরীণ এবং তিনটি আন্তর্জাতিক রুটে (ব্যাংকক, পারো ও সিঙ্গাপুর) নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করছে। ডিজি যাত্রা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে সজ্জিত এই টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক ও সময়সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করছে। পুরনো টার্মিনালটিকে ভবিষ্যতে কার্গো হাব হিসেবে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নতুন টার্মিনালটির সফল যাত্রা উত্তর-পূর্ব ভারতকে ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে এবং এটি অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে।
