অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসন্ন নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন। রাহায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার মাধ্যমে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী দেবাশিস শর্মার সমর্থনে দলের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। ঘোষিত নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে। নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আটটি বিধানসভা এলাকায় মোট ১৬টি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখার কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর প্রচার কর্মসূচির মধ্যে রাহা, ধিং এবং সামাগুড়ির মতো এলাকায় সভা রয়েছে। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর, ২ অক্টোবর এবং ৪ অক্টোবর নগাঁওয়ে তাঁর আরও নির্বাচনী কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। বিজেপি দেবাশিস শর্মাকে প্রার্থী করেছে। তিনি নগাঁওয়ের প্রাক্তন জেলা কমিশনার এবং ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং এরপর তাঁকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ সংসদ সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর নগাঁও লোকসভা আসনটি শূন্য হয়। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দিসপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। উপনির্বাচনে একাধিক প্রধান রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। কংগ্রেস প্রাক্তন বটদ্রবা বিধায়ক শিবামণি বরাকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে দলের সভাপতি এবং প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ভোটের আগে নগাঁওয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দল সভা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে নগাঁও-বটদ্রবা, রাহা, ধিং, রূপহিহাট ও সামাগুড়ি-সহ একাধিক বিধানসভা এলাকা রয়েছে। উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন এবং দলীয় সংগঠনগুলিও ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীর পক্ষে শর্মার প্রচার কর্মসূচি ভোটের আগে দলের বৃহত্তর নির্বাচনী প্রচেষ্টার অংশ। একই সময়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও নিজেদের প্রচার কর্মসূচি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নগাঁও আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তনের কারণে এই উপনির্বাচন অসমের রাজনৈতিক পরিসরে নজর কেড়েছে। ভোট যত এগিয়ে আসবে, প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীদের আরও জনসভা, প্রচার এবং জনসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ১১ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। ভোটারদের সামনে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর বক্তব্য ও প্রস্তাব তুলে ধরা হবে, এরপর তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনী প্রচারের এই পর্যায়ে প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মসূচি এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দলীয় কর্মীরাও বুথভিত্তিক সংগঠন, সভা এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নগাঁওয়ের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিমাণ আরও বাড়ছে। ফলে আগামী কয়েক দিন প্রচারের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে রাজনৈতিক মহলে প্রত্যাশা রয়েছে। এই সময়ে।
