প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এই যুগান্তকারী চুক্তিটি অস্থিতিশীল পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা সফলভাবে ফিরিয়ে আনবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬-এ জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী উভয় দেশের তীব্র নৌ ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে প্রদর্শিত কূটনৈতিক পরিপক্কতার প্রশংসা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত সশস্ত্র সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ পশ্চিম এশিয়া কেবল বিশ্ব শান্তির জন্যই অপরিহার্য নয়, বরং এটি ভারতের নিজস্ব কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গেও মৌলিকভাবে জড়িত।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অবিলম্বে শত্রুতার অবসান এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য এবং অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজারকে ব্যাপক স্বস্তি দেবে। যেহেতু পশ্চিম এশীয় অঞ্চল ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি বিশাল অংশের যোগান দেয় এবং এখানে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর এক প্রাণবন্ত জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাই এই উত্তেজনা প্রশমন সরাসরি লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীকে সুরক্ষা দেয় এবং নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য পথ নিশ্চিত করে। এছাড়াও, নয়াদিল্লি আশা করে যে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ফলে স্থগিত থাকা আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর (INSTC) এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর উন্নয়নসহ প্রধান আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো উদ্যোগগুলো ত্বরান্বিত হবে। সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, উগ্রবাদ মোকাবিলা করতে এবং এই কষ্টার্জিত শান্তি যেন উপমহাদেশ ও বৃহত্তর বিশ্বে যৌথ সমৃদ্ধির এক স্থায়ী যুগে রূপান্তরিত হয়, তা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লি সকল আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
