পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে ও সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের উপর নির্ভর করতে হবে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এলপিজি গ্রাহকদের ডিজিটাল মাধ্যমে বুকিং করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভিড় এড়ানো যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গার্হস্থ্য এলপিজি, পিএনজি ও সিএনজি সরবরাহ ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল একদিনেই ৫১ লক্ষের বেশি এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে ও হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে দেশজুড়ে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে ও বহু ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এলপিজির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে। কেরোসিন, কয়লা ও পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও শহর ও গ্রামে নতুন পিএনজি সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক রয়েছে সরকার।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বহু ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ও বিভিন্ন দেশে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব পড়লেও দেশের সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর শুল্ক কমিয়েছে, যার ফলে বাজারে দামের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ ও নাগরিক সুরক্ষায় সক্রিয় রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ মানুষকে সচেতন ও শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
