বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষে বইয়ের গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। দিবসটি উদ্যাপনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বই কেবল তথ্যের উৎস নয়, বরং এটি মানুষের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করার এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির এক অনন্য হাতিয়ার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সমৃদ্ধ সমাজ ও জাতি গঠনে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। ডিজিটাল যুগে যখন মানুষের মনোযোগ স্ক্রিনের দিকে বেশি, তখন বইয়ের পাতার প্রতিটি শব্দ একজন পাঠককে গভীরভাবে ভাবতে শেখায় এবং তাকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বইয়ের শক্তি মানুষের মস্তিষ্ককে নতুনভাবে সাজানোর ক্ষমতা রাখে। এটি পাঠকদের মধ্যে সহনশীলতা, সহানুভূতি এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন জ্ঞানমূলক ও সাহিত্যনির্ভর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে। মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, তরুণদের মেধার সঠিক বিকাশে বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সঙ্গী, যা তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে যে জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি হয়, তা সারাজীবনের জন্য এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকে এবং এটিই পারে সমাজ থেকে সংকীর্ণতা দূর করতে।
আসামের বিভিন্ন লাইব্রেরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকার বই পড়ার সংস্কৃতিকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশ্ব বই দিবসের এই বিশেষ দিনে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সাধারণ মানুষকে অন্তত একটি করে বই পড়ার বা উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মনে করেন, যদি প্রতিটি ঘরে বই পড়ার চর্চা শুরু হয়, তবে আসাম তথা সমগ্র ভারত মেধা ও মননে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। তার এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা রাজ্যের বইপ্রেমী ও তরুণ সমাজকে নতুন করে পাঠাভ্যাসে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
