অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র প্রকল্পে বড়সড় সাফল্য পেলেন বনকর্মীরা। গণ্ডার শিকারের পরিকল্পনা করার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজন শিকারিকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের পরিচালক সোনালী ঘোষ জানিয়েছেন, উদ্যানের পূর্বাঞ্চলীয় রেঞ্জ, গামিরি এবং বিশ্বনাথ বন্যপ্রাণী বিভাগের অপরাধ তদন্তকারী দল যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। ধৃত ব্যক্তিদের নাম কিরণ পেগু, রিজু পেগু এবং পুলেন কামান। তারা মাজুলি, লখিমপুর ও বিশ্বনাথ জেলার বাসিন্দা। মূলত কাজিরাঙার ষষ্ঠ সংযোজন এলাকায় গণ্ডার শিকারের ছক কষার সময় লখিমপুরের নারায়ণপুর থেকে তাদের হাতেনাতে ধরা হয়।
অভিযান চলাকালীন মাজুলি জেলার উখল চুক এলাকা থেকে একটি দেশীয় রাইফেলের বোল্ট ও বাট উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মার্চ মাসেই উদ্যানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে একটি .৩০৩ রাইফেল ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছিল বন বিভাগ। বন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধৃতরা আগে থেকেই বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কাজিরাঙায় চোরাশিকার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ‘বন দুর্গা’ নামে পরিচিত মহিলা বনকর্মীদের নজরদারি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটিকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একশৃঙ্গ গণ্ডার, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং এশীয় হাতির মতো বিরল প্রাণীদের বিচরণভূমি কাজিরাঙার নিরাপত্তা বজায় রাখতে বন দপ্তর বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
