বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোলপুর শান্তিনিকেতনে নানা সময় নানা ধরনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঠিক সেই মতো প্রায় শতাব্দী প্রাচীন পুঁথি, বিলুপ্তপ্রায় লিপির ইতিহাস ও ভারতীয় জ্ঞানচর্চার উত্তরাধিকারকে সামনে নিয়ে এসে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেখানে উঠে এল বাংলা-সহ বিভিন্ন ভাষার ভাষার দুর্লভপাণ্ডুলিপির নানা অজানা ইতিহাস ও গল্প।
এই প্রদর্শনীর মূল ভাবনা ‘বিভক্ত বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধছে মিউজ়িয়াম’। সেই বার্তাকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এমন আয়োজন বলে জানা যায় বিশ্বভারতী তরফ থেকে। লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে পুঁথি সংরক্ষণ, প্রাচীন লিপির বিবর্তন এবং
প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল উনিশ শতকের আগের একাধিক বিরল পুঁথি, যা বর্তমানে অনেকের কাছেই অজানা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বোলপুর শান্তিনিকেতনে আনা কয়েকটি ঐতিহাসিক পুঁথিও প্রদর্শিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা’র জন্য প্রাপ্ত ১৮৪৩ সালের একটি পুঁথি। এ ছাড়াও তালপাতায় লেখা গীতা, চৈতন্যভাগবতের প্রাচীন অনুলিপি, চণ্ডীমঙ্গল কাব্য এবং সংস্কৃত ভাষার গীতগোবিন্দ প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
শুধু বাংলা পুঁথিই নয়, ওড়িয়া, তিব্বতি পার্সিয়ান ভাষার পাণ্ডুলিপিও এই প্রদর্শনীতে রাখা হয়। প্যারিসে সংরক্ষিত কৃত্তিবাসী রামায়ণের পুঁথি, এছাড়াও বীরভূমের অন্যতম আকর্ষণ জয়দেব কেঁদুলি আশ্রমের দলিল এবং বিদেশে সংরক্ষিত বাংলা পুঁথির ছবিও প্রদর্শিত হয়। যা দর্শকদের বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট করে। চর্যাপদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পর্যন্ত বাংলা লিপির বিবর্তনের ধারাও এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।
