ব্রহ্মপুত্র নদী বোর্ডে সিকিমের সাম্প্রতিক অন্তর্ভুক্তি পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল তিস্তা নদীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সিকিম রাজ্য সরকার ৪৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সদস্যপদ লাভকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদী সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল পাওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মী এবং বিরোধী দলগুলির আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ তিস্তা অববাহিকায় অনিয়ন্ত্রিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করবে।
রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী সোনাম লামা জানিয়েছেন, গত ৮ মে সিকিম আনুষ্ঠানিকভাবে এই বোর্ডের সদস্য হয়েছে। রাজ্য ইতিমধ্যেই নদী সুরক্ষা প্রাচীর এবং ড্রেনেজ চ্যানেল নির্মাণের জন্য ২৮৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে। সিকিমের রাজ্যত্ব লাভের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের মুহূর্তে এই তহবিল রাজ্যের মানুষের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী মন্ত্রী।
অন্যদিকে, তিস্তা নদী বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম কর্মী গ্যতসো লেপচা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, মণিপুর বা ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলিতে এই বোর্ড বড় বাঁধ নির্মাণের পক্ষে সওয়াল করেছে। এর ফলে তিস্তার ‘স্টেজ ফোর’ (Stage IV)-এর মতো বিতর্কিত ও স্থগিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি পুনরায় চালু করার চাপ বাড়তে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, তিস্তা নদীর নিজস্ব ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ব্রহ্মপুত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এছাড়া তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী, যা সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে সিকিমে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা নিম্ন অববাহিকার অঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশগত এবং ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
