অসমের দেসাংমুখ অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও দেসাং নদীর তীব্র ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লিগিরিবাড়ি মিসিং গাঁও এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক পরিবার স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
গত বছর ভাঙন রোধে জিও-ব্যাগসহ কিছু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি। সামাজিক কর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গ্রামবাসীরা দেসাংমুখ থেকে দিখৌমুখ পর্যন্ত একটি সমন্বিত ও স্থায়ী ভাঙনরোধী প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, লিগিরিবাড়ি, আফালা, মেজরবাড়ি, সারাইপোরা, গর্ভগা ও আলিচিগার মতো নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া ঐতিহাসিক রামখা পীঠ দেবালয় এবং আজান পীর দরগার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাও ভাঙনের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সিবসাগর শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সমস্যা আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা অপরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থা, জলাধার দখল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে এর জন্য দায়ী করছেন।
বাসিন্দারা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভাঙন ও জলাবদ্ধতা—উভয় সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
