রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বন্যা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নতুন মন্ত্রীদের দফতর বা পোর্টফোলিও বণ্টনের চেয়ে এই মুহূর্তে বন্যা মোকাবিলা করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে, নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের স্থায়ী দফতর বণ্টন করতে কিছুটা সময় নেওয়া হবে। প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা এবং মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাজ্যের উদীয়মান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগামী এক দিনের মধ্যেই মন্ত্রীদের ‘গার্ডিয়ান মিনিস্টার’ বা অভিভাবক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে মন্ত্রীরা অবিলম্বে বিভিন্ন জেলায় ছুটে যেতে পারবেন, বন্যার চ্যালেঞ্জগুলো সরাসরি খতিয়ে দেখতে পারবেন এবং জেলা প্রশাসন যাতে উদ্ধারকাজে সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকে তা নিশ্চিত করতে পারবেন।
বন্যা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রাজ্য সরকার প্রশাসনিক গতিপ্রকৃতি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৬ জুলাই থেকে আসাম বিধানসভার পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যটি ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অধীনে কাজ করার কারণে কিছু উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আর্থিক বরাদ্দ সীমিত ছিল। নতুন বাজেট পাস হওয়ার পর, আগামী ১ আগস্ট থেকে সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নাগরিকরা আবার নিয়মিতভাবে পেতে শুরু করবেন।
এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই জনবণ্টন বিভাগে ভরতুকিযুক্ত ডাল, লবণ এবং চিনি বিতরণ জুন মাস থেকে আগামী দুই মাসের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে চাল বিতরণ যথারীতি চালু রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো ধরনের জল্পনা না ছড়ানোর আবেদন জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো সরকারি প্রকল্প বন্ধ করা হয়নি; জুলাই মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস হওয়ার পর আগস্ট থেকে এই ভরতুকিযুক্ত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পুনরায় চালু করা হবে।
